সর্বশেষ আপডেট : ৮ ঘন্টা আগে
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |

DAILYSYLHET

ছাত্র-জনতার গণবিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করলেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট

ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ এবং এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ছাত্র-জনতার তীব্র গণবিক্ষোভের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচ। রাজধানী বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের বাইরে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

তবে সার্বিয়ার সংবিধান অনুযায়ী তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার সুযোগ না থাকায়, আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠিতব্য সংসদীয় নির্বাচনে নিজের প্রগ্রেসিভ পার্টির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন রুশপন্থী এই জনতুষ্টিবাদী নেতা।

গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সার্বিয়ার রাজনীতিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করা ভুচিচ সরকারের বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল। তবে এই জনঅসন্তোষ চূড়ান্ত রূপ নেয় ২০২৪ সালে নোভী সাদ রেল স্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার পর।

সংস্কারের পর ওই রেল স্টেশনটি সার্বিয়ার অগ্রগতির প্রতীক হওয়ার কথা থাকলেও, এর ছাদ ধসের ঘটনাকে বিরোধীরা ভুচিচের প্রগ্রেসিভ পার্টির এক দশকের দুর্নীতিগ্রস্ত শাসনামলের প্রকৃত চিত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

এরপরই ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক ও কৃষকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। গ্রীষ্মকালজুড়ে চলা এই আন্দোলন দমনে সরকার পুলিশ মোতায়েন করলে পরিস্থিতি আরও সহিংস হয়ে ওঠে এবং পুলিশের বিরুদ্ধে নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগ ওঠে।

প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভুচিচের মেয়াদ আগামী বছর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, গণবিক্ষোভের মুখে জনরোষ প্রশমিত করতে তিনি মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করলেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী পদে লড়ে প্রগ্রেসিভ পার্টির শীর্ষ পদে নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই তার মূল রাজনৈতিক কৌশল।

তার পদত্যাগের পর সার্বিয়ার সংসদের স্পিকার এবং প্রগ্রেসিভ পার্টির নেতা আনা ব্রনাবিচ অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী আগামী তিন মাসের মধ্যেই দেশটিতে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যার অর্থ সার্বিয়ার জনগণকে এ বছর দুবার (সংসদীয় ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন) ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে।

পদত্যাগের ঠিক আগে ভুচিচ তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে ৪৯ জনকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষমা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২৩ জন শিক্ষার্থী ছাড়াও তার দলের এমন অনেক অনুগত নেতাকর্মী রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ ছিল।

আসন্ন নির্বাচনে ভুচিচের প্রগ্রেসিভ পার্টিকে বেশ কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের দ্বারা গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল ‘স্টুডেন্টস উইন’ এবং পশ্চিমাপন্থী বিরোধী দলগুলোর মোর্চা ‘ইউরোপিয়ান সার্বিয়া’ এই নির্বাচনে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী এবং ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়া আলেকজান্ডার ভুচিচ সার্বিয়াকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এ বিভাগের অন্যান্য খবর

নোটিশ : ডেইলি সিলেটে প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা বেআইনি -সম্পাদক

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

২০১১-২০১৭

সম্পাদক ও প্রকাশক: খন্দকার আব্দুর রহিম
নির্বাহী সম্পাদক: মারুফ হাসান
অফিস: ব্লু ওয়াটার শপিং সিটি, ৯ম তলা, জিন্দাবাজার, সিলেট।
মোবাইল: ০১৭১২ ৮৮৬ ৫০৩
ই-মেইল: dailysylhet@gmail.com

Developed by: